রামগতি-কমলনগরে সয়াবিন উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা

Sarwar Sarwar

Miran

প্রকাশিত: ৭:৩৭ অপরাহ্ণ, মে ৩, ২০২৩

 দেশালোক :
লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগর উপজেলা কৃষি বিভাগের তদারকি না থাকায় এবার সয়াবিন উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কাগজে কলমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন দেখালেও বাস্তবতার চিত্র ভিন্ন। সয়াবিন ছাড়াও চিনা বাদাম, মুগডাল, মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের বেলায় একই চিত্র।
সয়াবিন চাষিদের অভিযোগ, উপজেলা কৃষি অফিস শুধু নামেই আছে। কাজের কাজ কিছুই নেই এখানে। সার বীজ সহ সকল উপকরণ নামে-বেনাম দেওয়া হয়। সত্যিকারের কৃষকরা সরকারের এসব সুবিধাগুলো পাচ্ছেনা। যারা কৃষক নয়, তাদেরকেও কৃষক বানিয়ে সার বীজ দেওয়া হয়। এতে করে আসল কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছে কৃষি উপকরণ থেকে। এছাড়া কৃষি অফিসারা ঠিকমত দায়িত্ব পালন করছেনা। তারা সময়মত কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেনা। তাদের তদারকি না থাকায় এবার সয়াবিন চাষ তেমন ভাল হয়নি। কৃষকরা অনেকটা হতাশাগ্রস্ত। ভাল ফলন না হওয়ায় এবার সয়াবিন চাষিরা রয়েছেন দুশ্চিন্তায়।
কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা,সময়মত সার বীজ না দেওয়া, নিয়মিত মনিটরিং না করা, অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণ ও খাল-বিল সংস্কার না করায় এ ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হন তারা। অধিকাংশ সয়াবিন ক্ষেতে নানা জাতের পোকার আক্রমণে ভিতরে ফলন নেই। গাছ গুলোও এবার ছোট, ফলনও ছোট। আবার পোকার আক্রমণ তো রয়েছে। সব মিলিয়ে এবার সয়াবিন চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ নিয়ে রয়েছে শঙ্কা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারন অফিস সূত্রে জানা যায়, দেশের ৮০ ভাগ সয়াবিন উৎপাদন হয় এ জেলায়। কয়েক বছর ধরে এ জেলায় সয়াবিন ভালো উৎপাদন হওয়ায় লক্ষ¥ীপুরের অপর নাম হয় সয়াল্যান্ড। এ সয়াবিন চাষের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৭০ হাজার কৃষক। এতে বিশাল অংশ উৎপাদন হয় জেলার রামগতি-কমলনগর উপজেলা থেকে। কমলনগর উপজেলায় ১২ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ৪০০ হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ হাজার ২৫০ মেট্রিকটন। যার বাজার মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫১ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
চলতি বছরে রামগতি উপজেলায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর । ফলন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ হাজার মেট্রিক টন।
রামগতির চরকলাকোপা এলাকার চাষি সোলাইমান জানান, তিনি ৮০ শতক জমিতে সয়াবিন চাষাবাদ করেছেন।সরকার থেকে কখনোই কোন পরামর্শ বা সুযোগ সুবিধা তিনি পাননি। ধারদেনা করে সয়াবিন চাষ করেছেন, এখন মহাজনের ঋণের টাকা নিয়ে রয়েছেন দুশ্চিন্তায়।
কমলনগরের চরপাগলা এলাকার চাষি শামছুল হক জানান, তিনি ৬৫ শতক জমিতে সয়াবিন চাষাবাদ করেছেন।সরকার থেকে কখনোই কোন পরামর্শ বা সুযোগ সুবিধা তিনি পাননি। ধারদেনা করে সয়াবিন চাষ করেছেন, এখন মহাজনের ঋণের টাকা নিয়ে রয়েছেন দুশ্চিন্তায়।
তোরাবগঞ্জ এলাকার কৃষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, আর সয়াবিন চাষ করবোনা। প্রয়োজনে জমিন খালি থাকবে। কৃষি অফিসাররা সঠিক কৃষক যাচাই বাছাই না করে নামে-বেনামে সার বীজ দেয়। আমরা সরকার থেকে কিছুই পাচ্ছিনা।
রামগতি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, এতো কৃষক সবার নিকট যাওয়া বা তাদের খোঁজ খবর নেওয়া সম্ভাব নয়। আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা চেষ্টা করছেন, যাতে সঠিক কৃষকরা সরকারি সহায়তাগুলো ভোগ করতে পারেন।
কমলনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক বলেন, আমরা কৃষকদেরকে সব সময় সঠিক পরামর্শ দিয়ে আসছি। এবার এ অঞ্চলে সয়াবিনের ভাল আবাদ হয়েছে।