রামগতি পল্লী বিদ্যুতের ওয়ারিং পরিদর্শকের বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহনের অভিযোগ

Sarwar Sarwar

Miran

প্রকাশিত: ৩:০১ অপরাহ্ণ, মে ১, ২০২৪
  • মিটার প্রতি নিচ্ছেন দুইশ টাকা
  • অনৈতিক সুবিধা নিতে নিয়োগ দিয়েছেন দালাল
  • ঘুষ গ্রহনের ভিডিও ভাইরাল

দেশালোক:

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জোনাল অফিসের ওয়্যারিং পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অবৈধ সুযোগ সুবিধা নিতে লাইসেন্সভূক্ত ইলেক্টিশিয়ানদের অমূল্যায়ন করে উপজেলার ৯ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায় ৩০জন দালাল নিযুক্ত করেছেন এ কর্মকর্তা। এসব দালালদের মাধ্যমে ওয়্যারিং পরিদর্শন বাবদ টাকা আদায় করছেন তিনি।

তার অত্যাচারে সাধারণ মানুষের শত শত আবেদন নিয়ে লাইসেন্সভূক্ত ইলিক্টিশিয়ানরা অফিসের বারান্দায় ঘুরাঘুরি করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইলিক্টিশিয়ান জানান, ওয়্যারিং পরিদর্শক প্রতি আবেদন ফরম বাবদ ২শ টাকা করে দেওয়ার চাপ দেন। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী নির্ধারিত ফি’র বাহিরে কোন টাকা লাগে না। এখন মানুষ টাকা না দিলে আমরা তাকে কোত্থেকে টাকা দিবো? আমরা টাকা না দেওয়াতে ওয়্যারিং পরিদর্শক দালালদের মাধ্যমে এ অবৈধ কাজগুলো করছেন। পাশাপাশি আমাদেরকে নানানভাবে হয়রানি করছেন তিনি। আমরা তালিকাভূক্ত হয়ে সহজে মিটার না পেলেও দালালরা মিটার পাচ্ছে খুব সহজেই। এ নিয়ে ওয়্যারিং পরিদর্শক ও ইলিক্টিশিয়ানদের মধ্যে চরম দ্বন্ধ রয়েছে।

জানা যায়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি রামগতি জোনাল অফিসের ওয়্যারিং ইন্সপেক্টর জাহিদুল ইসলাম রামগতিতে যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। রামগতি উপজেলার পাশাাপাশি তিনি অতিরিক্ত হিসেবে কমলনগর উপজেলারও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দায়িত্বকালীন সময়ে ১১হাজারের অধিক নতুন মিটারের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। মিটার প্রতি ২শ টাকা করে প্রায় ২২লক্ষ টাকা আদায় করেছেন জাহিদুল ইসলাম। গুনে গুনে মিটার প্রতি টাকা গ্রহনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে এসেছে। তার অনিয়ম দুর্নীতিতে উপজেলার ১৫ ইলিক্টিশিয়ান প্রতিনিয়তই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, বৈধভাবে নতুন সংযোগ নিতে গেলে ওয়্যারিং পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম মিটার আবেদন ফরম বাবত কমপক্ষে দুইশ টাকা করে উৎকোচ দাবী করে থাকেন। দিতে অস্বীকৃতি জানালে গ্রাহকদের সংযোগ না দিয়ে তাদের নানা ভাবে হয়রানী করে থাকেন।

এ ব্যাপারে ওয়্যারিং পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে সৎ দাবী করে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ সবগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট। ভিডিওটি মিথ্যা বলে দাবী করেন তিনি।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রামগতি জোনাল অফিসের ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোঃ রেজাউল করিম বলেন, বিষয়টিকে আমি দ্বন্ধ বলব না।

ইলিক্টিশিয়ানরা অনেক সময় অবৈধ সুবিধা নেওয়ার জন্য এ ধরনের অভিযোগ করতে পারে। বিষয়টি তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন। লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান বলেন, আমি এ মাত্র শুনলাম। খোঁজ খবর নিচ্ছি। অভিযোগ প্রমানিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।