প্রশাসনের নোটিশেও সরেনি অবৈধ স্থাপনা, বেড়ীবাঁধে উচ্ছেদ অভিযান S S M প্রকাশিত: ৬:০১ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২৬ দেশালোক ডটকম: দেশের দক্ষিনাঞ্চলের অন্যতম দর্শনীয় স্থান আলেকজান্ডার বেড়ীবাঁধ অবৈধ দখলমুক্ত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে অভিযান পরিচালনা করছে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। শনিবার (২৭জুন) সকাল দশটা থেকে দিনব্যাপি এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন নিপা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রামগতি পানি উন্নয়ন উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়সাল, উপ-সহকারী প্রকৌশলী তনয় রায় চৌধুরী, রামগতি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মর্তুজা আল আমিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর দিদারুল ইসলাম খন্দকার, বিএনপি নেতা তানভীর আহমেদ জুয়েল, রামগতি থানা পুলিশের একটি দল ও আনসারসদস্যসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক, গণমাধ্যমকর্মী ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ। লক্ষ্মীপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আলেকজান্ডার বাজারের দক্ষিনে অবস্থিত মেঘনা তীর সংরক্ষন বেড়ীবাঁধের সাড়ে চার কিলোমিটার অংশের সেন্টার খাল থেকে পাটোয়ারী তেহমুনি পর্যন্ত প্রায় ৬১টি অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। গতো কয়েক মাস ধরে এসব স্থাপনা গড়ে উঠলে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে গতকাল শুক্রবার অবৈধ এসব স্থাপনার মালিকরা নিজ উদ্যোগে অপসারন করতে নোটিশ করেছে উপজেলা প্রশাসন। নির্ধাতি সময় শনিবার সকাল নয়টার মধ্যে মালিকরা এসব দোকান ও স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এ উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এতে সবগুলো স্থাপনাই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেটে দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। পুনরায় যেন এসব স্থাপনা আবার গড়ে উঠতে না পারে এ বিষয়েও দেওয়া হয়েছে কঠোর নির্দেশনা। রামগতি পানি উন্নয়ন উপবিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, মেঘনা বেড়ীবাঁধ যথাযথ সংরক্ষন এবং এর সৌন্দর্য রক্ষার্থে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সরকারি সম্পদ অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে। উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন নিপা জানান, দর্শনার্থীদের চলাচল সাবলীল করতে এসব অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বাঁধের নিরাপত্তা এবং দর্শনীয় এ স্থানের উন্নয়য়ে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি এ জনপ্রিয় স্থানটির সৌন্দর্য রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন, জনসচেতনতা তৈরি করাসহ সচেতন এলাকাবাসীকেও এগিয়ে আসার আহবান জানান। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ১শ ৯৮কোটি টাকার একটি প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে মেঘনা তীর রক্ষায় ৪সাড়ে কিলোমিটার বেড়ীবাঁধ নির্মান করা হয়। এরপর থেকেই দেশের দক্ষিনাঞ্চল তথা লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার এলাকার এ বাঁধটি মিনি কক্সবাজার হিসেবে দর্শনার্থীদের কাজে বেশ পরিচিতি পেয়েছে। গতো কয়েকমাস ধরে অবৈধ দখলের কবলে পড়ে সৌন্দর্য হারাচ্ছে মেঘনা তীর। বিভিন্ন উৎসব পার্বনের ছুটিতে হাজারো দর্শনার্থীর পদচারণায় মূখর থাকা পাথর ব্লক সম্বলিত দৃষ্টিনন্দন বেড়ীবাঁধের উপরে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছিলো শতাধিক স্থায়ী-অস্থায়ী স্থাপনা। SHARES আইন আদালত বিষয়: