রামগতিতে নদী ভাঙ্গন ও বেড়ীবাঁধ পরিদর্শনে পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি

S S

M

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০২৬

সারোয়ার মিরন: 
“আমরা উপকূলীয় অঞ্চলের লোক এবং প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে আমরা এখানে টিকে আছি। বিশেষ করে যখন বর্ষা আসে, অতি বর্ষা মানে এখানে একটা প্লাবন- একটা বন্যার স্রোত দেখা দেয়। আমাদের মজু চৌধুরীর হাট থেকে শুরু করে কমলনগর-রামগতি-বয়ারচর পর্যন্ত প্রায় ৬২কিলোমিটার। এই পুরো এলাকায় আমরা অনেক জায়গায় বাঁধ ভাংগা থাকার কারনে, বাঁধ না থাকার কারনে আমাদের এ এলাকার মানুষ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বাড়িঘর হারিয়েছে, জায়গা জমি নি:শেষ হয়েছে। অনেকেই নি:স্ব হয়ে পড়েছে। আমাদের এখানে যে উৎপাদিত ফসল এই ফসল পানির কারনে যথাযথ উৎপাদন হয় নাই। সবকিছু মিলিয়ে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে আমাদেরকে টিকে থাকতে হচ্ছে। কোনভাবেই আমরা এখানে জীবন ধারণ করে আছি।”- লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মেঘনার ভাংগন কবলিত এলাকা ও চলমান বেড়ীবাঁধ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করতে এসে এসব কথা বলেন লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

১৪মার্চ, শনিবার দুপুরে উপজেলার চরআলেকজান্ডার ইউনিয়নের আসলপাড়া এলাকায় মেঘনার ভাঙ্গন ও বেড়ীবাঁধ কাজের পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। এ সময় পানিসম্পদ মন্ত্রী বহদ্দারহাট লঞ্চঘাট, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর তত্তাবধানে নির্মিত ৪.৫কিলোমিটার বেড়ীবাঁধ পরিদর্শন করেন।

এছাড়া তিনি চরআলগী ইউনিয়নের চরনেয়ামত, বড়খেরী ইউনিয়নের কোরের বাড়ী মোড়, চরগাজী ইউনিয়নের বয়ারচর সেতু সংলগ্ন মেঘনার ভাংগন এবং বেড়ীবাঁধ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। দুপুর দুইটায় ভুলুয়া চরআলগী ইউনিয়নের ভুলুয়া নদী ও স্লুইসগেট এলাকা পরিদর্শন করেন।

এ সময় পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী গণমাধ্যমর্মীদের সাথে কথা বলেন। তিনি জানান, জনগনের পাশে জনগনের দীর্ঘদিনের যে দাবি জনগুরুত্বপূর্ন এবং জনদাবি যেগুলো ছিলো সেগুলোকে সমন্বয় করার জন্য আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি। ইতিমধ্যে কিছু কাজ চলছে, কাজের ধরন কেমন, কাজের মান কেমন- আরো কিভাবে এটাকে বেশি সেই ৬২কিলোমিটার নদীর পাড় এটাকে সমন্বয় করা যায়, এটাকে বাঁধ দেওয়া যায় সেদিকে বিশেষ নজর আমাদের পানিসম্পদ মন্ত্রনালয় থেকে দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ এ এলাকার মানুষের যেটা প্রয়োজন-সুবিধা জনস্বার্থে এ কাজগুলো আগামী দিনে আমরা সম্পন্ন করবো।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বিগত সময়ে যারা ছিলেন- এরা দেশের অর্থ কিভাবে লুটপাট, টাকা পাচার করেছে এটা আমরা দেশবাসী জানি। একদিকে সেটা তদন্তনাধীন রয়েছে, আরেক দিকে এ তদন্তের কারনে যারা আজকে আমাদের এ এলাকায় লক্ষ-লক্ষ, কোটি-কোটি টাকার যে প্রজেক্ট থেকে বঞ্চিত হয়েছি, ঠিকমত কাজ হয়নি- তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। পাশাপাশি অনেকগুলো কাজ যেগুলো চলমান রয়েয়ে- খুব দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন তা আমরা পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাব। এছাড়াও ভুলুয়া নদী দ্রুত খনন ও দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন নিপা, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহি প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খান, রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ লিটন দেওয়ান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র সাহেদ আলী পটুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।