নোয়াখালীতে পুকুর থেকে রামগতির ঔষধ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার 

S S

M

প্রকাশিত: ২:২৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০২৬

দেশালোক:

নোয়াখালী পৌর এলাকার কাশীরামপুরে একটি পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় রঞ্জন কুরি (৫৮) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে স্থানীয়রা পুকুরে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

জানা যায়, কাশীরামপুর হেঞ্জু মিয়ার বাড়ির পুকুরে প্রথমে এক ব্যক্তি পানিতে ভাসমান অবস্থায় মাথা ও ঘাড়ের অংশ দেখতে পান। পরে বিষয়টি আশপাশের লোকজনকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে এটি মানুষের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ–এর সুধারাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
মৃত রঞ্জন কুরি দুই কন্যা ও এক পুত্রের জনক। তার ছেলে জয় কুরি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি–এর শিক্ষার্থী। বড় মেয়ে তিনা রানী স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ–এ এবং ছোট মেয়ে ইশা রানী নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ–এ পড়াশোনা করছেন।
নিহতের স্ত্রী শিল্পী রানী জানান, গত দুই দিন ধরে তার স্বামী নিখোঁজ ছিলেন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পাওয়ায় শুক্রবার তিনি সুধারাম থানা–এ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কিছুদিন ধরে কয়েকজন যুবক রঞ্জন কুরিকে জিম্মি করে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করছিল। জীবিত অবস্থায় তিনি স্থানীয়দের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, দত্তের হাট মসজিদের রাস্তার পাশে এক ব্যাংকারের বাসার সামনে তাকে আটক করা হয়। এ সময় ভয় পেয়ে তিনি একটি পুকুরে পড়ে যান। পরে তাকে তুলে নিয়ে অন্যত্র আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে ওই যুবকেরা তার বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী শিল্পী রানীর কাছ থেকেও প্রায় ৩০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে যায়। রঞ্জন কুরি বিষয়টি স্থানীয় দত্তবাড়ি মোড় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমকে জানিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে। তিনি কয়েকজন যুবকের নাম উল্লেখ করে তাদের দ্বারা বিভিন্নভাবে হেনস্থার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন।
স্থানীয়দের ধারণা, পরে আবার চাঁদা দাবি করা হলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এর জেরে তাকে হত্যা করে গভীর রাতে বাড়ির পাশের পুকুরে লাশ ফেলে দেওয়া হতে পারে।
এদিকে ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী আতঙ্কে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কখনো ঘটনার বিষয়ে কথা বলছেন, আবার কখনো মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কিছু জানেন না বলেও দাবি করছেন।
এ বিষয়ে সুধারাম থানার এসআই কাউসার জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো ঘটনা।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আপাতত ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।