এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার খোলা চিঠি

S S

M

প্রকাশিত: ৩:০৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০২৬

দেশালোক:

স্থানীয় খাল, নদী ও জলাশয় রক্ষা, ভুলুয়া নদী খনন, রামগতির ভূমি উদ্ধার এবং অবৈধভাবে মাটি ও গাছ কাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়ে সাংসদ ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের উদ্দেশ্য খোলা চিঠি লিখেছেন চররমিজ ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আবদুল আহাদ জুয়েল। এ খোলা চিঠিটি পাঠকদের সুবিধার্থে হুবহু তুলে ধরা হল-

মাননীয় সংসদ সদস্য,

সশ্রদ্ধ সালাম গ্রহণ করবেন। আমি আমাদের এলাকার সচেতন নাগরিক ও সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে আপনার নিকট এই খোলা চিঠির মাধ্যমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরতে চাই।

আমাদের এলাকার খাল, নদী ও জলাশয়গুলো একসময় প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। এসব জলাশয়ের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন, পরিবেশের ভারসাম্য এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় থাকত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে বর্তমানে অনেক খাল, নদী ও জলাশয় অবৈধ দখল, ভরাট ও দূষণের কারণে তাদের স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে ফেলছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দেখা দেয়, যা কৃষি ও জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

এছাড়াও ভুলুয়া নদী দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে নাব্যতা হারিয়েছে, যার কারণে এলাকার স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং কৃষি ও পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তাই এই নদীটি দ্রুত খনন ও পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি। এর পাশাপাশি আরেকটি গুরুতর সমস্যা হচ্ছে রামগতি এলাকার প্রায় দশ হাজার একর জমি জোরপূর্বক নোয়াখালী সূবর্নচরের কিছু ভূমি দখলকারী ভোগদখল করছে। অন্যদিকে ঐ জমির প্রকৃত মালিকরা বর্তমানে সর্বহারা হয়ে অনেকেই রাস্তার পাশে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে মাটি ও গাছ কেটে ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এ ধরনের কার্যক্রম দ্রুত বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি।

এমতাবস্থায়, আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি—

১. আমাদের এলাকার খাল, নদী ও জলাশয়গুলো দ্রুত দখলমুক্ত করে সংস্কার ও খননের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

২. ভুলুয়া নদী দ্রুত খনন করে তার নাব্যতা ও স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা।

৩. রামগতির প্রায় দশ হাজার একর জমি অবৈধ দখলমুক্ত করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৪. অবৈধভাবে মাটি ও গাছ কেটে ইটভাটায় ব্যবহার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

আমরা বিশ্বাস করি, আপনার আন্তরিক উদ্যোগ ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের এই সমস্যাগুলোর ন্যায্য সমাধান সম্ভব হবে। আপনার সদয় দৃষ্টি ও দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ কামনা করছি।

বিনীত

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে

আবদুল আহাদ জুয়েল