রামগতিতে পর পর দু মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে বোরো ধানের আবাদ S S M প্রকাশিত: ৪:১৫ অপরাহ্ণ, মে ১০, ২০২৬ দেশালোক: গত কয়েক বছর ধরে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে জনপ্রিয় হচ্ছে বোরো ধানের চাষ। বিঘা প্রতি উৎপাদন বেশি, উপজেলা কৃষি বিভাগের প্রনোদণা ও মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শসহ বেশ কয়েকটি কারনে এ অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে বোরো ধান আবাদের আগ্রহ সৃষ্টি করছে। ফলশ্রুতিতে পরপর দুই মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ মৌসুমে উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৫ শ হেক্টর জমি মৌসুম শেষে এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ২শ হেক্টর আবাদি জমি বৃদ্ধি পেয়ে চাষ হয় ১হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে। অন্যদিকে চলতি মৌসুমে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২হাজার হেক্টর জমি। কিন্তু মৌসুম শেষে তা ৭শ ৫০ হেক্টর বৃদ্ধি হয়ে চাষ হয়েছে ২ হাজার ৭শ ৫০ হেক্টর জমিতে। উপজেলা কৃষি অফিসের সাথে আলাপকালে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বোরো ধানের চাষাবাদ বৃদ্ধিতে কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার আওতায় ৪শ কৃষককে বীজ ও সার প্রদান প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও ২হাজার কৃষককে দেওয়া হয়েছে উন্নতমানের হাইব্রিড বীজ সহায়তা। পরপর দুই মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে বোরো ধান চাষ হওয়ায় পেছনে উপজেলা কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ে তদারকি, কৃষকদের প্রনোদনা প্রদান, উন্নতমানের হাইব্রিড বীজ সহায়তা, কৃষকদের আগ্রহসহ অনুকুল আবহাওয়া থাকায় লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য রবি শস্য, সয়াবিন ও তরমুজ চাষ ছেড়ে ফলন ভালো হওয়ায় বোরো চাষের প্রতি কৃষকরা ঝুঁকছেন। এছাড়াও বোরো ধানের বীজে রয়েছে সহজলভ্য শতাধিক উন্নত জাত। এসব জাতের ধান চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তবে কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন- বর্ষা মৌসুমে মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ার হানা দেওয়ায় বেশিরভাগ বোরো চাষযোগ্য জমিতে নোনাযুক্ত থাকে এবং প্রয়োজনীয় মিঠাপানির সংস্থান না থাকায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কৃষকরা বোরো ধান চাষ করতে পারছেন না। চররমিজ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. আলী (মেম্বার) চলতি মৌসুমে প্রায় দেড় কানি জমিতে বোরো -ধানের চাষ করেছেন। প্রতি কড়ায় ফলন হয়েছে ৭ থেকে ৮মন করে। আগামীতে ১২কানি জমিতে চাষ করার পরিকল্পনা নিচ্ছেন। পানি সংস্থানে ব্যক্তি উদ্যোগে গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এছাড়াও রোরো চাষকে ছড়িয়ে দিতে সরকারি উদ্যোগে গভীর নলকূপ স্থাপনের আবেদন তার। রামগতি পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডে বোরো ধান চাষী মো. সোহেল ও মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, ভালো ফলনের আশায় ইরি (বোরো) ধান রোপন করেছি। ফলনও আশানুরুপ পেয়েছি। তবে সহজে পানির ব্যবস্থা, কীটনাশক ও সারের মূল্য কমালে আরো লাভবান হওয়া যেত। চররমিজ ইউনিয়নের চরগোসাই গ্রামের কৃষক সানা উল্যাহ জানান, কৃষি অফিস থেকে বীজ পেয়ে নিজের উদ্যোগে বোরো ধান চাষ করেছি। ফলন বেশ ভালো। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ, সার ও বীজ প্রনোদনার আওতায় নিয়ে আসায় বোরো ধানের চাষাবাদ প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সেচের ব্যবস্থা করা গেলে এ চাষাবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে বলেও জানান তিনি। SHARES উপকূল বিষয়: