সংযোগ সড়ক ও সেতু সংষ্কার না হওয়ায় রামগতিতে দুর্ভোগে লাখো মানুষ S S M প্রকাশিত: ৩:১৮ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২৬ সারোয়ার মিরন: লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে সেতুর ভেঙ্গে পড়া সংযোগ সড়ক সংষ্কার না হওয়ায় দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন দুই উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর তেগাছিয়া বাজার সংলগ্ন গাবতলী খালের উপর স্থাপিত তেগাছিয়া সেতুটির পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কটি গত বর্ষা মৌসুমে অমবস্যা ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে তীব্র জোয়ারের স্রোতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকে গত এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে রামগতি উপজেলার সাথে নোয়াখালী জেলার সূবর্ণচর উপজেলার সম্পূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। এছাড়াও চরগাজী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড, টাংকি বাজার, চৌরাস্তা বাজার, হাতিয়া বাজার, রামগতি ব্রিজঘাট মৎস অবতরণ কেন্দ্র এবং বয়ারচরসহ বেশ কয়েকটি এলাকার সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে। সংযোগ সড়ক এবং সেতুর ভেঙ্গেপড়া গাইড ওয়াল দীর্ঘদিন ধরে নির্মান ও সংষ্কার না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে মূল সেতুটিও। অন্যদিকে সড়কটি বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বিকল্প কোন সড়ক না থাকায় যাতায়াতে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ২০০২সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট (সিডিএসপি) প্রকল্পের আওতায় তেগাছিয়া বাজারের গাবতলী খালের উপর ৪০মিটার দৈর্ঘ্যরে এ সেতুটি নির্মান করে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসের শেষ দিকে তীব্র জোয়ারের আঘাতে ভেঙ্গে পড়ে সেতুর উত্তর পাশের সংযোগ সড়ক। প্রায় ১৫মিটার সংযোগ সড়ক বিলীন হয়ে যায় গাবতলী খালে। স্থানীয়দের উদ্যোগে কাঠের পাটাতন তৈরি করে চলাচলের সাময়িক ব্যবস্থা করলেও চলতে পারেনা কোন যানবাহন। ফলশ্রুতিতে ব্যবসায়িক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন টাংকি বাজার মাছঘাটের দুই শতাধিক ব্যবসায়ী ও তেগাছিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা। নোয়াখালী কিংবা রামগতি থেকে মালবাহী গাড়ি প্রবেশ করতে না পারায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে। একাধিক স্থানে ভেঙ্গে ভেঙ্গে মালামাল বহন করতে হয় বিধায় বাড়তি খরচ মেটাতে হচ্ছে তাদের। এছাড়াও এ এলাকার ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮টি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তেগাছিয়া বাজারের ব্যবসায়ী তৌহিদুল ইসলাম এবং চরগাজী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, গত বর্ষায় এ সেতুর পশ্চিম অংশের মাটি ধেবে যায়। এরপর জোয়ারের তোড়ে সম্পূর্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সংযোগ সড়ক। গত একবছর সময় ধরে সংষ্কার না হওয়ায় ব্যবসায় বানিজ্যসহ চলাচল করতে কষ্ট হয়। কোন ধরনের যানবাহন চলতে পারেনা। দ্রুত এ সড়কটি সংষ্কার করা হোক, না হয় আগামী বর্ষায় মূল সেতুটিও ভেঙ্গে পড়বে। চরগাজী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শেখ ফরিদ জানান, সেতুটি ও সংযোগ সড়ক সংষ্কারের বিষয়ে এলজিইডি, উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত করা হয়েছে। এখানে একটি স্থায়ী বেইলি সেতু নির্মানের কথা রয়েছে। আশাকরি এ অঞ্চলের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহন করবে সরকার। উপজেলা প্রকৌশলী স্নেহাল রায় জানান, ইতিমধ্যে একাধিকার সেতুটি পরিদর্শন করে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। এখানে একটি স্থায়ী বেইলি সেতু নির্মান করা হবে। জেলা কার্যালয়ে বেইলি সেতুর জন্য কিছু মালামাল আছে। পাশাপাশি গাজীপুর থেকেও প্রয়োজনীয় মালামাল আনার প্রক্রিয়া চলমান আছে। দ্রুতই সেতুটি স্থাপন করা হবে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: