ঈদুল আযহা ঘিরে রামগতিতে ব্যস্ত গো-খামারিরা, ভালো দামের প্রত্যাশা

S S

M

প্রকাশিত: ৩:৪৪ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২৬

দেশালোক:

পবিত্র ঈদুল আযহা’য় কুরবানিকে ঘিরে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে গো-খামারীরা। ভালো দাম পেয়ে লাভবান হওয়ার আশায় দিন-রাত কাজ করছেন নিজ খামারে। প্রত্যাশার বিপরীতে গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে কুলিয়ে উঠতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরসূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে প্রস্তত হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির ১৫হাজার ৮শ ২৬টি গবাদিপশু। এর মধ্যে ষাড়ের সংখ্যা ৪হাজার ৪০টি, বলদ ৩হাজার ৪০টি এবং গাভী রয়েছে ১হাজার ১৫০টি। এছাড়াও মহিষ ২হাজার ৫শ, ছাগল ৪হাজার ২৫৭টি এবং ভেড়ার সংখ্যা ৮৩৮টি। উপজেলা বৃহৎ ৩৫টি এবং মাঝারি ও ছোট মিলেয়ে ২৭৩টি গবাদি পশুর খামার রয়েছে। আসন্ন ঈদুল আযহায় কুরবানির জন্য সম্ভাব্য চাহিদা রয়েছে ১৪হাজার ২৩০টি গবাদিপশু। সবমিলিয়ে প্রায় দেড় হাজারের মত গবাদিপশু উদ্বৃত্ত থেকে যাবে।

ইতিমধ্যে উপজেলা এবং রামগতি পৌরসভা মিলিয়ে সর্বমোট ১৫টি পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রামগতি পৌরসভায় দুটি এবং উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৩টি পশুর হাট বসবে। ১৫টি হাটের মধ্যে স্থায়ী ৬টি এবং অস্থায়ী ৯টি গরুর হাট রয়েছে।

উপজেলার রামদয়াল বাজার সংলগ্ন সরকার এগ্রোর সত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ রাহাদ হোসেন জানান, দীর্ঘদিন বিদেশে থেকে স্থায়ীভাবে দেশে চলে আসছি। স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় অর্ধশতাধিক গরু নিয়ে খামার শুরু করেছি। সম্পূন্ন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় খাবার তৈরি ও চাষ করা সবুজ ঘাসসহ প্রাকৃতিক খাদ্য খাওয়াচ্ছি। ইতিমধ্যে ঈদে বিক্রি করার মতো বেশ কয়েকটি গরু প্রস্তত করেছি। আশাকরি ভালো দাম পাব।

চররমিজ ইউনিয়নের মাঝারি খামারী নুর নবী জানান, বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ১২টি গরু এবং ৩০টি ছাগল নিয়ে খামার গড়েছি। গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে কুলিয়ে উঠতে পারছিনা। ভালো দাম না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবো। আমরা মধ্যমানের খামারী হিসেবে সরকারি সহায়তা চাই।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের উপসহকারী পশুসম্পদ (প্রাণি স্বাস্থ্য) কর্মকর্তা মো. রফিক উদ্দিন জানান, আমাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী উপজেলায় ঈদুল আযহায় কুরবানিযোগ্য গবাদিপশুর ঘাটতি হবেনা। সবমিলিয়ে দেড় হাজারের মতো উদ্বৃত্ত থাকবে। তিনি আরো জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে সবকটি গরুর হাটগুলোতে সার্বক্ষনিক ডাক্তার উপস্থিতিসহ নজরদারি থাকবে। এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে সুস্থ ও কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু নিশ্চিতে কাজ করছি। খামারীদেরকে সরকারি সব ধরণের সেবা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।