লক্ষ্মীপুর-৪, দাঁড়িপাল্লা প্রার্থী এআর হাফিজ উল্লাহর ইশতেহার

Sarwar Sarwar

Miran

প্রকাশিত: ১২:২২ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬

সারোয়ার মিরন:

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী এআর হাফিজ উল্লাহ নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো –

নির্বাচনী ইশতেহার: এ আর হাফিজ উল্লাহ, সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী (লক্ষ্মীপুর-৪)

উপস্থিত সম্মানিত সাংবাদিক এবং অনলাইনে দেশ ও বিদেশ থেকে যুক্ত ভোটার ভাই ও বোনেরা, আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ, অমুসলিম ভাই-বোনদের প্রতি আদাব/নমস্কার।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার চাবি আপনার হাতে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে ৫৫ বছরে আমার আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। বার বার আমাদের সামনে পুরোনো বন্দোবস্তের রাজনীতি, যা দেশকে এগিয়ে নিতে এক বিরাট বাধা।

সম্মানিত ভোটারবৃন্দ, ভোেট একটি আমানত, এটি সঠিকভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে ফিরে আসবে এক নতুন বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশে থাকবেনা কোন দূর্নীতি, চাঁদাবাজী, দখলদারিত্ব, কিংবা নতুন কোন ফ্যাসীবাদ। সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব ছাড়া এ পরিবর্তন সম্ভব নয়।

আমি এ আর হাফিজ উল্যাহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসন থেকে দাঁড়িপাল্লা মার্কা নিয়ে সংসদ সদস্য প্রার্থী। একটি ন্যায়, ইনসাফপূর্ণ ও ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র গড়তে রামগতি ও কমলনগর নিয়ে আমার ইশতেহার ঘোষণা করছি।

 

নদীভাঙ্গন রোধ> নদী ভাঙ্গন রোধ এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে Geo block ও Green belt পদ্ধতির মাধ্যমে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা।

➤ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ বাসস্থান ও জীবিকার ব্যবস্থা করা।

> দখল হয়ে যাওয়া খাল পুনরুদ্ধার করে নদী ও খালগুলোর স্বাভাবিক সংযোগ নিশ্চিত করা।

 

ভুলুয়া নদী সংস্কার

➤ রামগতি-কমলনগরের জলাবদ্ধতা রোধে ভুলুয়া নদী যথাযথ খনন, সংস্কার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা।

➤ Sediment Tansport Optimization পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে ভুলুয়া নদীর নাব্যতা স্থায়ী করা

 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

> ঘর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র আধুনিকীকরণ, উপকূলীয় অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা।

 

প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান

> রামগতি কমলনগরে কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।

> কুটির শিল্প প্রসারের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া এবং বাজার বৃদ্ধির লক্ষ্যে কুটির শিল্পের মেলার আযোজন করা।

➤ বিদেশ গমনেচ্ছুদের জন্য পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

➤ উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সকল শিক্ষার্থীর জন্য কারিগরি বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ব্যাসিক আইটি কোর্স নিশ্চিত করা।

> কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগ্রহী যুবকদের পর্যাপ্ত কারিগরি প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা।

➤ সেক্টর ভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা করা।

➤ ইনোভেটিভ আইডিয়া কম্পিটিশন আযোজন করার মাধ্যমে প্রতিভাবান তরুণদের প্রযোজনীয় সহায়তা প্রদান করা।

 

বিদ্যুৎ ও ফায়ার সার্ভিস সমস্যার নিরসন

> লোডশেডিং থেকে জনদুর্ভোগ কমাতে রামগতি অঞ্চলে পাওয়ার গ্রিড স্থাপন করা।

➤ রামগতি দক্ষিণ অঞ্চলের জন্য একটি ফায়ার সার্ভিস সাব-ইউনিট স্থাপন করা।

> দুর্ঘটনা এড়াতে বাজার গুলোতে প্রয়োজনীয় আগুন প্রতিরোধক সামগ্রী প্রদান করা।

➤ আগুন নেভাতে পানি সরবরাহের প্রয়োজনীয় উৎস নির্মান করা।

 

দুর্নীতিকে লাল কার্ড

> ঘুষ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সকল সরকারি ও বেসরকারি অফিস-আদালতে কাঙ্খিত সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।

 

সমাজ সংস্কার

> সকল প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন ও গণসচেতনতা তৈরী করে একটি নিরাপদ, নৈতিক ও সুশৃঙ্খল সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।

➤ রামগতি ও হাতিয়ার মধ্যকার সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তি করা।

 

স্বাস্থ্য নিরাপত্তা

➤ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সমূহের শয্যা বৃদ্ধিকরণসহ আধুনিক ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উন্নত চিকিৎসাযন্ত্র স্থাপন করে প্রাথমিক পরীক্ষাসমূহ নিশ্চিত করা।

➤ চিকিৎসা সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের স্বনামধন্য হাসপাতাল সমূহের সাথে CSR চুক্তির মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সমন্বয়ে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে মাসিক চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন করা।

> ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ক্লিনিকসমূহকে আধুনিকায়ন করে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা।

 

নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা

# ইভটিজিং, নারী নির্যাতন ও যৌন হয়রানি রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন ও মনিটরিং সেল গঠন করা।

➤ নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করা।

> বাজার ভিত্তিক নারীদের প্রয়োজনীয় সুবিধাসহ ইবাদাত খানা স্থাপন করা।

 

কৃষি সম্প্রসারণ

# ছোট ও মাঝারি ধরনের এগ্রো খামারিদের প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও বাজারজাতের ব্যবস্থা করা।

➤ কৃষিকাজ সহজীকরণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউনিয়ন ভিত্তিক আধুনিক কৃষি যন্ত্রের সহজলভ্যকরণ।

➤ সেচ ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে যথোপোযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহন করা।

> ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা।

 

মৌলিক সেবা

> ইউনিয়ন উপজেলা এবং সকল সরকারি অফিসে নাগরিক হয়রানি বন্ধ করা এবং সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মনিটরিং সেল গঠন করা।

> ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক সেবা বৃদ্ধি করা।

> বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী, অসহায় ও দুরারোগ্য রোগীদের ভাতা ও সরকারী সহায়তা সহজীকরণ এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী শতভাগ বাস্তবায়ন।

➤ অভিযানের মৌসুমে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা।

➤ চরাঞ্চলে শুকনো মৌসুমে পানি সমস্যা নিরসনে গভির নলকূপ স্থাপন করা।

➤ ইউনিয়নের সকল সেবা আধুনিকায়ন করা এবং জনগণের জন্য সহজলভ্য করা।

➤ অনলাইনে অভিযোগ সেল গঠন করার মাধ্যমে নাগরিক সমস্যা সংগ্রহ এবং দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহন করা।

 

শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো উন্নয়ন

➤ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়ন, মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, কাওমী ও ইবতেদায়ী শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আদায় এবং উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণ।

➤ রামগতি ও কমলনগরে শিক্ষার মান উন্নয়ন কল্পে ২টি উচ্চ মাধ্যমিক লেভেলের আধুনিক শিক্ষার সন্নিবেশে মানসম্মত কলেজ স্থাপন করা।

➤ আলেকজান্ডার সরকারি কলেজকে অনার্স মানে উন্নীত করা।

> দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রামগতির শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে শিক্ষা কমিটি গঠন করে রামগতি ও কমলনগর অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহন করা মানসম্মত ফলাফল অর্জনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে তাঁদের সফর নিশ্চিত করা।

> বিভিন্ন বিশ্বিবদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রামগতির শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে নানা ধরনের আকষণীয় শিক্ষা ও অনুপ্রেরণামূলক আয়োজন বাস্তবায়ন করা।

 

যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন

> লক্ষ্মীপুর-আলেকজান্ডার-সোনাপুর সড়কের প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় ব্রিজ, কাল-ভার্ট নির্মাণ।

> সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা।

> টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

# আলেকজান্ডার টু আব্দুল্যাহ চর যাতায়াতের ট্রলার সার্ভিস চালু করা।

➤ রামগতি কমলনগর উপজেলার নদী সংলগ্‌ন মাছ ঘাট সমূহের অবকাঠামো উন্নয়ন, রামগতি পুরাতন মাছঘাট রক্ষা, নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

➤ রামগতি পৌরসভাকে মডেল পৌরসভায় উন্নীতকরন এবং কমলনগরে একটি পৌরসভা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহন।

 

পরিবেশ সংস্কার

➤ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইটভাঁটাগুলোকে জিগজ্যাগ পদ্ধতিতে রূপান্তর করা।

➤ প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক ঔষধি গাছ রোপন করা।

➤ পর্যটন খাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা।

 

বাজার সংস্কার

> বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণ এবং মান রক্ষার জন্য মনিটরিং সেল গঠন করা।

➤ প্রতিটি বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গভীর নলকূপ ও স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা করা

> জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশস্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা স্থাপন করা।

# বাজারের ময়লা নিঃসরণ ও পরিবেশ দূষণ রোধে পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা তৈরি করা।

➤ বাজারের মূল অংশে আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে রাস্তার সংস্কার।

> বাজারে মহিলাদের নামাজের ব্যবস্থা।

 

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি

➤ মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য ধর্মালম্বীদের উপাসনালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

> সহিহ কুরআন শিক্ষার জন্য প্রতিটি পাড়ার মসজিদে বিদ্যমান মক্তব ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বেতন বৃদ্ধি করা।

 

ক্রীড়া উন্নয়ন

➤ ক্রীড়ার উন্নতিকল্পে জাতীয় ক্রীড়াসংস্থার নিয়ন্ত্রণে উপজেলা ভিত্তিক স্টেডিয়াম তৈরি ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

➤ প্রতিভবান খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় তদারকি ও ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রদান করা।

➤ দক্ষ ও চৌকস খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ সৃষ্টি করতে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।