এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান: উপকূলের ইতিহাসের অংশ Sarwar Sarwar Miran প্রকাশিত: ২:৫২ অপরাহ্ণ, মার্চ ৭, ২০২৬ সারোয়ার মিরন: এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। নামেই যেমন ভিন্নতা, তেমনি রাজনৈতিক মাঠেও রয়েছে তাঁর আলাদা দক্ষতা। এ পর্যন্ত তিনটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনবারই জয়ের মালা গলায় তুলেছেন তিনি। তিন তিনটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়ে এ অঞ্চলের ভূরাজনীতির ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন নিজেকে। লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মেঘনা তীরবর্তী জনপদ চরআলগী ইউনিয়নের চর টগবি গ্রামে জন্ম তাঁর। চরের এই জনপদ থেকেই উঠে আসা একজন শিল্প উদ্যোক্তা আজ জাতীয় রাজনীতির আলোচিত মুখ। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চমক দেখিয়ে পরাজিত করেন দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট আইনজীবী মরহুম সিএইচপি আবদুর চৌধুরী এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলক ও সাবেক মন্ত্রী আ স ম আবদুর রবকে। সেই নির্বাচনের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। এর আগেই বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি দেখিয়েছিলেন নিজের রাজনৈতিক দক্ষতা। সে সময় তিনি বিএনপির প্রভাবশালী নেতা আবদুর রব চৌধুরীকেও পিছনে ফেলেছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হওয়ায় শুরুতে অনেকের মনে সন্দেহ থাকলেও ভোটের মাঠে তিনি দেখিয়েছেন অসাধারণ সাফল্য। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন তিনি। সেই সময় তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। একসময় বক্তৃতা দিতে কিছুটা জড়তা থাকলেও সময়ের সাথে সাথে তিনি হয়ে ওঠেন একজন শক্তিশালী বক্তা। রাজপথ থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ-সবখানেই তাঁর বক্তব্য ছিল নজরকাড়া। ২০১৩ সালে জাতীয় সংসদে হেফাজত আন্দোলন নিয়ে তাঁর দেওয়া বক্তব্য দেশ-বিদেশে আলোচিত হয়। বিরোধী রাজনীতি কিংবা আন্দোলন-সবখানেই ছিল তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি। সুসময় কিংবা দুঃসময়-সবসময়ই তিনি ছিলেন কর্মীবান্ধব। মামলা-হামলা কিংবা বিপদে পড়া নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সবসময়। জনশ্রুতি রয়েছে, ২০০৭ এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনে তাঁর শক্তিশালী বক্তৃতাই মানুষের সমর্থন পাওয়ার বড় কারণ ছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি প্রায় দুইশর বেশি উঠান বৈঠকে অংশ নেন এবং প্রায় দুই লক্ষ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন ও হাত মেলান। বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক তিনি। প্রথমে সংসদ সদস্য, পরে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি- আর এখন সংসদের সরকার দলীয় হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গ্রামের এক সাধারণ জনপদ থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করা- এ যেন এক স্বপ্নের গল্প। এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পরও নানা কারণে আলোচনায় আসেন তিনি। নির্বাচনের পর চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলে নিজ দলের প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেই মামলা করার উদ্যোগ নেন। বিজয় মিছিল না করা, অভিনন্দন গ্রহণ না করা কিংবা নিজ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কিছু ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ ইতিমধ্যে মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। রাজনীতি ও নির্বাচনী মাঠে দক্ষ এই জনপ্রতিনিধি জীবনের অন্যতম বড় সাফল্য অর্জন করেছেন। উপকূলীয় ও মেঘনার ভাঙন কবলিত লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) এলাকার মানুষ বিপুল ভোটে তাঁকে নির্বাচিত করে জাতীয় সংসদে পাঠিয়েছে। এ যেন এ অঞ্চলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও ইতিহাসেরই আরেকটি ধারাবাহিকতা। কমরেড তোয়াহা, সিএইচপি আবদুর রব চৌধুরী, মো. জমির আলী, আসম আবদুর রব, সানা উল্যাহ নুরী, শফিউল বারী বাবুদের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন অনন্য এক উচ্চতায়। পাশাপাশি হয়ে উঠছেন নিজেই নিজের প্রতিদ্বন্ধী। লেখক: প্রকাশক ও সম্পাদক, দেশালোক ডটকম SHARES আইন আদালত বিষয়: