ট্রেড লাইসেন্স বই, ট্যাক্স বই এবং কয়েকটি প্রকল্প ফাইল পাওয়া যাচ্ছে না রামগতিতে ইউপি কার্যালয়ে রহস্যজনক চুরি ও নথিপত্রে আগুন S S M প্রকাশিত: ৭:০১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২৬ দেশালোক: লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে একটি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে রহস্যজনক চুরি এবং নথিপত্র আগুনে পোড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। ২৬ আগস্ট, বুধবার গভীর রাতে উপজেলার ৬নং চর আলগী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনাটি ঘটে। এতে কার্যালয়ের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরির পাশাপাশি বেশ কিছু নথিতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুবৃর্ত্তরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে- ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা (অ.দা.) মো. ইউসুফের কক্ষের পশ্চিম পাশের জানালার গ্রিল ভাঙ্গা অবস্থায় কক্ষের ভেতর পড়ে রয়েছে। এছাড়াও ঐ কক্ষের কিছু কাগজপত্র ও ফাইল এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। তবে লোহার গ্রিলের ভেতরে থাকা জানালার দরজায় কোন ধরনের আঘাত বা ভাঙ্গার চিহ্ন নেই। এছাড়াও উন্মুক্ত একটি কক্ষে বেশ কিছু নথি পোড়ার ছাই পড়ে আছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সফিক উদ্দিন জানান, বুধবার সকালে খবর পেয়ে পরিষদে আসি। এমন গ্রীল ভাঙ্গা এবং পোড়ানো কাগজপত্র দেখতে পাই। প্রাথমিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ফাইল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। তবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যাবে সচিব অফিসে উপস্থিত হলে। এছাড়াও ঘটনাটি সাথে সাথে পুলিশকে অবহিত করা হয়। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেছেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তা (অ.দা.) মো. ইউসুফ জানান, আমি এখানে সাপ্তাহে দুইদিন চলতি দায়িত্ব পালন করছি। সরকারি বন্ধের কারনে কর্মস্থলে নেই। তবে ঘটনাটি শুনেছি। যতটুকু খোঁজ খবর নিয়েছি তাতে কিছু ট্যাক্স বই এবং কিছু প্রকল্প ফাইল মিসিং আছে। বাকিটা অফিসে এলে বিস্তারিত বলতে পারব। ইউপি উদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম খসরু জানান, আগের দিন অফিস শেষ করে বাসায় যাই। বুধবার সকালে খবর পেয়ে পরিষদে এসে ভেতর থেকে ধোঁয়া দেখতে পাই। পরে তালা খুলে কার্যালয়ে প্রবেশ করলে গ্রিল ভাঙ্গা অবস্থায় দেখি। পাশাপাশি হলরুমে বেশ কিছু নথিপত্র আগুনে পোড়ানো ছাই দেখতে পাই। তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক ভাবে আামার কম্পিউটার প্রশিক্ষক কোর্সের বেশ কয়েক বছরের সনদ, ট্রেড লাইসেন্স বই, ট্যাক্স আদায়ের চলমান রশিদ বই এবং চৌকিদারি ভাতার বই ভাতার বই খুেঁজ পাচ্ছি না। চৌকিদার নুর নবী জানান, অফিসে আইপিএস, ল্যাপটপ-কম্পিউটারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র সবই ঠিক আছে। জানালার গ্রিল ভাঙ্গা অবস্থায় ভেতরে থাকলেও দরজায় কোন চিহ্ন নেই। কি এমন চোর যে নামি-দামি সব জিনিস বাদ রেখে শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটা কাগজপত্র আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে! প্রত্যক্ষদর্শী ও ইউপি কার্যালয়ের আরো একাধিক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, অফিসের চাবি থাকে উদ্যোক্তার কাছে। তিনি দিন-রাতে সব সময় অফিসে কাজ করেন। চুরি ও নথি পুড়িয়ে ফেলার ঘটনাটি সাজানো। অফিসের ভেতরের কেউ না কেউ এ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। গুরুত্বপূর্ণ কোন ডকুমেন্ট গায়েব করার উদ্দেশ্যে এটি সাজানো হয়েছে। রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ লিটন দেওয়ান জানান, খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (রামগতি-কমলনগর সার্কেল) ডা. শামসুল আলম স্যার এব আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পুরো বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। SHARES আইন আদালত বিষয়: