আমরা আমাদের কথা রেখেছি: কৃষক কার্ড উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

S S

M

প্রকাশিত: ১২:১০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০২৬

সারোয়ার মিরন: 
‘‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি নারীদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করে দিয়ে গেছেন। আমরা বলেছিলাম এটিকে আমরা অনার্স পর্যন্ত নিয়ে যাবো। শুধু তাদের নয়, সারা দেশের নারীদের সাবলম্বী করার জন্য আমরা ফ্যামিলি কার্ড দেব। আজকে আমরা আমাদের কথা রেখেছি। আমরা বলেছি আমরা কৃষক ভাইদের সহযোগিতা করার জন্য আমরা মায়েদের যেমন ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছি তেমনি কৃষক ভাইদেরকে কৃষক কার্ড দেব এবং এই কৃষক কার্ড যেমন সম্মানিত তেমনি একসাথে ধীরে ধীরে সার, বীজ ও কীটনাশক সরকারী ব্যবস্থাপনায় পৌছে দেব। আজকে শুধু এই এলাকা নয় সারা বাংলাদেশে এক লক্ষ কৃষক ভাইদের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া হচ্ছে’’— লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

‘গুপ্ত রাজনীতি’ ও ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার সরকারের রাজনীতির বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এর সাথে জড়িত, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে তাদের কোনো কর্মসূচি নেই; বরং তারা কেবল ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতেই লিপ্ত। সরকারের কর্মসূচিগুলো যদি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হয়, তবে আজ আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আজ আমি মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়েছি, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, ইমাম—মোয়াজ্জিনদের সম্মাননা এবং দুঃস্থ মানুষদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। দেশে যদি অরাজকতা দেখা দেয়, তবে কি এই কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করা সম্ভব হবে? জনগণ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন চাওয়ায় সরকার ধীরে ধীরে কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করছে।

তিনি আরো বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্দেশ্য নারীদের নিয়মিত সহায়তা দেওয়া, আর কৃষক কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে ধীরে ধীরে কৃষকদের সার, কীটনাশক ও বীজের মতো কৃষি উপকরণের সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘সামাজিকভাবে ও অর্থনৈতিকভাবে এই মানুষগুলো ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে এবং যখন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সমৃদ্ধ হবে, তখন বাংলাদেশও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের বাস্তবায়ন, ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের সম্মাননা প্রদান, খাল খনন এবং বন্ধ থাকা কল—কারখানা পুনরায় চালু করা।

১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রামগতি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের ভাচুয়ালি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রামগতি উপজেলা প্রসাশনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান।

রামগতি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ভাচুর্য়াল এ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর—২ আসনের সংসদ সদস্য, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল খায়ের ভুঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর—৪ (রামগতি—কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, লক্ষ্মীপুর—১ আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন সেলিম, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ জহির আহমেদ, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ হ্যাপি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দীনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারী কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন— আপনারা দেখেছেন নির্বাচনের পরে আঙ্গুলের কালি মোছার আগেই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি বিতরণ শুরু করেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছেন। এই কৃষক কার্ড অনেক কাজে ব্যবহৃত হবে। যেমন— কৃষক কার্ড যাদের থাকবে তিনি একাধারে ন্যায্যমূল্যে সার পাবেন, সরকারি ভূমি বরাদ্ধে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে সারা বাংলাদেশে এ কৃষক কার্ড পৌছে দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, কৃষি মন্ত্রনালয়ের অধীনে যে সমস্ত কাজ আছে— সার, বীজ, কীটনাশক ইত্যাদিতে লক্ষ্মীপুরের কৃষকরা অগ্রাধিকার পাবেন। একটি অপ্রচার চলছে— দেশে স্যারের সংকট। বাংলাদেশের কোথাও কোন সারের সংকট নাই। পর্যাপ্ত সংখ্যক মজুদ রয়েছে। আমরা সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে যেন কৃষকরা সার পায় সে ব্যবস্থা করেছি। গুজবকারীদের অপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়ার মাধ্যমে আমরা জনগনের মন জয় করবো।

সংসদ সদস্য আবুল খায়ের তার বক্তব্যে রামগতিবাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেন— আপনারা একজন সৎ ও যোগ্য নেতা পেয়েছেন। এই নেতার মাধ্যমে রামগতি—কমলনগরকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যেতে পারবো ইনশাআল্লাহ। এখানে কোন দুনীর্তি হবে না, এখানো কোন মাদক হবে না। এখানে চেয়ারম্যান মেম্বার এমপিদের মাধ্যমে দুর্নীতেকে কোন প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। যারা সৎ ভাবে দেশের সেবা করতে রাজি আছেন তারাই এমপি হবেন, নেতৃত্বে থাকবেন এবং আগামীতে স্থানীয় সরকারে নির্বাচন করবেন।

সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন— এই বাংলাদেশ অনেক সুন্দর হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের আইকন। তাঁকে আমরা ফলো করি। উনি যখন বলেন দুনীর্তির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। তখন আপনি উনাকে ফলো করতে হবে। উনি যখন বলেন উন্নয়নের জন্য কাজ করব তখন সে কথা মনে রাখতে হবে। কৃষকের অধিকার, শ্রমিকের অধিকার, গরীব মানুষের অধিকার, শিক্ষকের অধিকার, ছাত্রের অধিকারসহ সকলের অধিকার সংরক্ষিত রাখতে হবে। আমরা ৩১দফার কথা বলেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেগুলোর কাজ করছেন। আমরা সকলে মিলে তাঁকে সহযোগিতা করছি।

দেশের ৭৭টি উপজেলায় প্রাথমিক পর্যায়ে কৃষক কার্ড বিতরণের অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায়ে রামগতি উপজেলাসহ ১৫টি উপজেলায় কৃষক কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উপজেলার ৬নং চরআলগী ইউনিয়ের ৩টি ওয়ার্ডে ৬৫৮জনের মাঝে এ কার্ড তুলে দেওয়া হয়।