মেঘনার ভাঙ্গনে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে প্রাথমিকের পাঠদান S S M প্রকাশিত: ৫:০৭ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২৬ সারোয়ার মিরন: মেঘনার ভাঙ্গনে হুমকির মুখে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর একমাত্র বিদ্যাপীট দশদাগ গ্রাম বহুমূখী ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র ও প্রাথমিক বিদ্যালয়। লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে বয়ারচরে অবস্থিত এ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে যে কোন সময়। গতো বর্ষায় বিলীন হয়ে গেছে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র পথ বেড়ীবাঁধটি। জোয়ারের সময় যাতায়াত করতে পারছেন না শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ফলশ্রুতিতে পাঠদান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। জানা যায়, ২০০৫ সালে জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে যাত্রা শুরু হয় বিদ্যালয়টির। এরপর ২০০৭-০৮ অর্থবছরে নেদারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে চর উন্নয়ন ও বসতি স্থাপন প্রকল্প (সিডিএসপি)-৩ এর আওতায় লক্ষ্মীপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এলজিইডির সহযোগিতায় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে দ্বিতল এ ভবনটি নির্মান করে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী এ ঝুঁকিপূর্ন ভবনে পাঠদান কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। প্রায় শত ফুট দৈর্ঘ্যরে দ্বিতল ভবনটির বেশিরভাগ ভূমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সামান্য কিছু জিওব্যাগ দিয়ে রক্ষা করার চেষ্টা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। শিক্ষকদের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, সরকারি কোষাগার থেকে বেতন ভাতা না পেলেও শুধুমাত্র উপকূলের দুর্গম চরের শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রানান্ত চেষ্টা করছেন তারা। বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি মেঘনার ভাঙ্গন ঝুঁকিতে থাকায় ক্রমশ কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। পাশাপাশি বিদ্যালয় সংলগ্ন বিস্তীর্ন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় অন্যত্র চলে যাচ্ছেন অভিভাবকরা। বর্তমানে ৭০ থেকে ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত উপস্থিত হয়ে পাঠদানে অংশ নিচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শরিফ উদ্দিন জানান, প্রাইমারি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি নিয়েই পাঠদান কার্যক্রম করা হচ্ছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রয়োজনীয় বইসহ অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে সরকারী প্যাটার্ন অনুযায়ী ৬জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। তারা নিয়মিত উপস্থিত হয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা প্রকৌশল কর্মকর্তা স্নেহাল রায় জানান, ভবনটি ভাঙ্গনকবলিত হয়ে ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে আবেদন করলে আমরা এটি ভাঙ্গনের জন্য নিলামের ব্যবস্থা করব। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুর রহমান স্বপন জানান, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হওয়ায় আমাদের তেমন কিছু করা নেই। ভবনটির দায়িত্ব এলজিইডির। তবে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রধান শিক্ষককে। দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর একমাত্র বিদ্যালয়টি যেকোন সময় বিলীন হয়ে যেতে পারে মেঘনায়। বেসরকারি হওয়ায় অন্যত্র স্থানান্তরে প্রয়োজনীয় অর্থ ও ভূমিও নেই এলাকাবাসীর। তাদের দাবি বিদ্যালয়টি রক্ষার জন্য জরুরী ভিত্তিতে বাঁধ নির্মান এবং ভবনটি সংষ্কারের উদ্যোগ নিবে সরকার। পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া এ জনগোষ্ঠীর শিশুদেরকে শিক্ষার মূলধারায় অংশগ্রহন নিশ্চিতকরনে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করার দাবিও করেন তারা। SHARES উপকূল বিষয়: