রামগতিতে শত্রুতার আগুনে সব হারিয়ে নিঃস্ব আবদুল আউয়াল মাষ্টার

S S

M

প্রকাশিত: ১১:১০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩০, ২০২৬

দেশালোক:

সত্তরোত্তর অবসর প্রাপ্ত প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক আবদুল আউয়াল তার একমাত্র আশ্রয়স্থল ঘরটি হারিয়ে কষ্টে পাথর হয়ে আছেন। চোখের সামনে পুড়ে ছাই হতে দেখেছেন নিজের বসত ঘর। হাজারো মানুষের প্রাণ পণ চেষ্টায়ও রক্ষা করতে পারেনি তার সহায় সম্বল। লেলিহান আগুনের শিখা এক এক করে পুড়ে ছাই ভস্মে পরিনত করেছে গোলা ভরা ধান, মটকা ভরা চাল। পুড়ে গেছে লেপ তোশক। আগুনের তান্ডব থেকে রক্ষা করতে পারেন নি নিজের অবসরোত্তর কাগজপত্র। পুড়ে গেছে তিন ছেলে-মেয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সনদপত্র।

মর্মান্তিক অগ্নিকান্ডের এ ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড টুমচর এলাকার আবদুল আউয়াল মাষ্টার বাড়িতে। গত বুধবার রাত সাড়ে নয়টার সময় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে একটি টিনশেড বসত ঘর, রান্নাঘর, লাড়কির ঘরসহ ৫টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ২৮লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তের শিকার পরিবারটি।

আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হয়েছেন আবদুল আউয়ালের ছেলে মো. ইউসুফ রায়হান, মো. ইসমাইল হোসেন, মো. নেচার উদ্দিন, মো. সৌরভ, মো. হোসেন, মো. বাচ্চু, মো. তারেকসহ অন্তত ১৫জন। প্রায় তিনঘন্টা ধরে চলা আগুনের লেলিহান শিখা শত চেষ্টা করেও রক্ষা করতে পারেননি তারা। দুর্গম এলাকা হওয়ায় সঠিক সময়ে পৌছতে পারেনি ফায়ার বিগ্রেডের গাড়ি কিংবা সদস্যরা। আশপাশের মানুষজন চেষ্টা করেও আগুন নেভাতে পারেন নি।

ভুক্তভোগি আবদুল আউয়ালের ছেলে ইউসুফ রায়হান জানান- পাশের বাড়ির মৃত শাহে আলমের ছেলে মো. মনির উদ্দিন (৫৫), তার চার ছেলে মো. ফিরোজ (৩৫), মো. মিলন (২৮), মো. মাহফুজ (২৬) এবং মো. আকবর হোসেন (২৩) এর সাথে তাদের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। তারা বিভিন্ন সময় আমাদের বাড়ি-ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ধামকি দিয়েছে। পূর্ব শত্রুতার এ জের ধরে মনির উদ্দিন ও তার প-িরবারের সদস্যরা তরল দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ৫টি ঘর এবং ঘরে থাকা ৬৫মণ ধান, ৭০মন সয়াবিন, ২০মণ চাল, ২টি রেফ্রিজারেটর, ২টি পানির মটরসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ইউছুফ বলেন, সব হারিয়ে আমরা এখন নিঃস্ব হয়ে গেছি। একটা টুকরাও রক্ষা করতে পারিনি। ঘরের চারদিক থেকে একই সময়ে কেবল আগুনই দেখেছি।

অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক আবদুল আউয়াল জানান, সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে এ ঘরটি করেছিলাম। পূর্ব শত্রুতার আগুন আজ আমার সব কেড়ে নিয়েছে। কিছুই বাকি নেই। এখন খোলা আকাশের নিচে থাকতে হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার চাই।

প্রত্যক্ষদর্শী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম জানান, আগুনের লেলিহান শিখা দেখে এগিয়ে আসি। সবকটি ঘরের চারপাশেই দেখি আগুন জ্বলছে। সবাই মিলে চেষ্টা করেও রক্ষা করতে পারিনি। পুরো ঘটনাটি অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।

রামগতি ফায়ার স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খোকন মঞ্জু জানান, এলাকাটি দুর্গম চরাঞ্চল। উপজেলা সদর থেকে অনেক দুরে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল। পরে খবর পেয়েছি স্থানীয়রা আগুন নেভাতে সক্ষম হয়েছে।

রামগতি থানার এসআই সাধন কান্তি চৌধুরী জানান- অগ্নিকান্ডের খবর শোনার সাথে সাথেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। এরপরদিন অফিসার ইনচার্জ মহোদয় স্বশরীরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগি পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।