পবিত্র মাহে রমজানের ত্রিশ শিক্ষা: ৩য় পর্ব (শেষ) Sarwar Sarwar Miran প্রকাশিত: ৫:০৮ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২১ সারোয়ার মিরন: পবিত্র রমজান মাস আত্ম-সংযমের মাস। পরিশুদ্ধির মাস। আমল আখলাকের মাস। এ মাসে তাকওয়া অর্জনের পাশাপাশি নিজের চরিত্র গঠনের ট্রেনিং সেশন এ মাহে রমজান। রমজানের বহুমুখি শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে উত্তম জীবন গঠনের নিজেকে পরিশুদ্ধ এবং খাঁটি মুমিন হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। তাই আসুন প্রতি ত্রিশটি রমজানে নিদেনপক্ষে ত্রিশটি শিক্ষা কাজে লাগাই। নিজের ইমানকে শানিত করি। আজ থাকছে ধারাবাহিক তিন পর্বের শেষ পর্ব। শিক্ষাঃ২১. পবিত্র রজনী কদরের রাত্রি সাতাশ রমজান নয়। মাহে রমজানের শেষ দশ দিনের বিজোড় (২১, ২৩, ২৫ ২৭ ২৯ রমজান) রাত্রি গুলোর যে কোন একটিতেই পবিত্র শবে কদর। সুতরাং শুধুমাত্র সাতাশ রমজানের রাত্রিতে শবে কদর মনে করা অনুচিত। তবে হ্যাঁ, বেশির ভাগ ইসলামিস্টদের ধারনা সাতাশ তারিখেই কদর রাত্রি হওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর। নিদ্ধিষ্ট তারিখে সীমা না টেনে শেষ দশ দিনের প্রতিটি বিজোড় রাতেই আমরা পবিত্র শব ই কদর তালাশ করি। শিক্ষা: ২২. সদকায়ে জারিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হোন। পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে এমন কতক গুলো সম্পদ রেখে যান যাতে মৃত্যুর পরও পুণ্য জমা হতে থাকে আপনার নামে। লোক মুখে যুগের পর যুগ প্রচারিত হতে থাকে আপনার নাম। যেমন, মসজিদ মাদ্রাসা, এতিমখানা, মক্তব, স্কুল কলেজ, হাসপাতাল, নেক সন্তান ইত্যাদি সদকায়ে জারিয়ার উদাহরন। শিক্ষাঃ ২৩. গীবত করা থেকে বিরত থাকুন। কারো অনুপস্থিতিতে দোষ, নেগেটিভ কিছু বলে বেড়ানোই গীবত। আবার অতিরিক্ত কিংবা বাড়িয়ে গুনকীর্তন করাটাও গীবতের সম পর্যায়ে পড়ে। সুতরাং কারো অনপুস্থিতিতে তার বিষয়ে কথা বলতে সতর্কতা অবলম্বন জরুরী। অতিরিক্ত গুনকীর্তন কিংবা যাচ্ছেতাই বলে বেড়ানো কাম্য নয়। আবার জেনে শুনে প্রকৃত গুন গোপন করাও সমিচীন নয়। শিক্ষাঃ ২৪. পবিত্র ঈদের মতো একটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যময় আয়োজনকে কেবলই কেনাকাটা এবং খাওয়া দাওয়াময় করে তুলবেন না।আজকাল চারিদিকে মুসলিমদের ঈদ আয়োজনে নানামুখী আড়ম্বরের ছলচাতুরী দেখে শংকিত হই। ঈদ, রমজান- এ গুলোর প্রকৃত উদ্দেশ্য আড়ালে চলে যাচ্ছে, পাশাপাশি সামনে চলে আসছে খানাপিনা, আনন্দ আয়োজনের অতিরিক্ত উদ্দীপনা।মাহে রমজান তথা ঈদের প্রকৃত উদ্দেশ্য পালনে ভুমিকা রাখি। শিক্ষাঃ ২৫. ঘরে পশু পাখি, জীব জন্তু, মানুষ ইত্যাদির ছবি টানাবেন না।এসবের ছবির উপস্থিতি রয়েছে এমন বেড কভার, ক্যালেন্ডার, পাপোষ, টাইলস্, ওয়ালম্যাট, টেবিলম্যাট, জামা কাপড়, ইত্যাদি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। এসব ব্যবহারে ধর্মীয় বিধি নিষেধ আরোপ করা আছে। যদি প্রয়োজনীয় এসব জিনিস ব্যবহার করতে হয় তাহলে, ফুল, ফল, প্রকৃতি, গ্রাফিক্স ইত্যাদির ছবি ব্যবহার করা যেতে পারে। শিক্ষাঃ ২৬. সকল শুভ কাজ শুরু প্রাক্কালে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরন করুন। মুসলিম হিসেবে আপনার দৈনন্দিন সকল কাজ হোক আল্লাহকে রাজি খুশি করার জন্য। মুসলিমদের বৈধ সব কাজই ইবাদতের শামিল যদি সেটাতে আল্লাহকে স্মরন করে করা হয়। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে কাজ শুরু করলে এতে পুন্যতার পাশাপাশি বরকতময় হয়ে ওঠে। আসুন আমাদের প্রতিটি কাজ আল্লাহর নামেই শুরু করার অভ্যাস করি। শিক্ষাঃ ২৭. মুসলিম হিসেবে আমাদের সকলেরই উচিত পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনুল কারীম অর্থসহ জেনে বুঝে পাঠ করা। এবং সে অনুযায়ী আমল করার সমূহ প্রচেষ্টা করা। আমরা অধিকাংশ বাঙ্গালী মুসলিম অর্থ না বুঝেই কোরআন তেলাওয়াত করি। এর ফলে কোরআনের প্রকৃত ম্যাসেজ হৃদয়াঙ্গম হয় না পাশাপাশি কার্যকর আউটপুটও পাওয়া যায় না। কোরআনের প্রকৃত রহস্য উন্মেচন করতে হলে অবশ্যই তা অর্থসহ পড়তে হবে। অর্থসহ কোরআন পড়লে অধিক পুণ্যসহ হেদায়াত প্রাপ্তিতে সহযোগি ভুমিকা পালন করে। শিক্ষাঃ ২৮. ছোট খাটো দোয়া গুলো আমল করার অভ্যাস করি। যেমন খাওয়ার শুরু-শেষে, বাথরুমে যেতে আসতে, ঘুমুতে যেতে আসতে, মসজিদে ঢুকতে বের হতে, গাড়িতে উঠতে নামতে ইত্যাদি কাজে কর্মে এক দু লাইনের ছোট ছোট দোয়া, মাসআলা মাশায়েল গুলো নিয়মিত আমল করি। ছোট ছোট আমলই প্রয়োজনের সময় নাজাতের উসিলা হয়ে দাঁড়াবে। প্রখম দুটি পর্ব পড়ুন: https://deshalok.com/news/3141 লেখক: সম্পাদক, দেশালোক ডটকম SHARES জীবনধারা বিষয়: ইসলামধর্মরমজানশিক্ষাসারোয়ার মিরন