লক্ষ্মীপুর–৪ আসন: ১৭ দফা বাস্তবায়নে কাজ করবেন পীরাচা

Sarwar Sarwar

Miran

প্রকাশিত: ৯:৪০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০২৫

দেশালোক:
জাতীয় পর্যায়ে দীর্ঘ ছাত্র রাজনীতি শেষে এবার শ্রমিক রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা রেখে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তৌফিক উজ জামান পীরাচা। টানা ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই তরুণ নেতা এবার জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি থেকে মনোনয়ন ফরম তুলে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনকে ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় বিপুল সংখ্যক সমর্থকের উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। মনোনয়ন নেওয়ার পর গণমাধ্যমকর্মীদের পীরাচা বলেন- “জনগণের ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও অংশীদারিত্বের নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে রাজনীতিতে নেমেছি।”

তিনি আরও বলেন- “প্রচলিত ধারা ভেঙে দ্বি-ধারার নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রান্তিক মানুষই হবে মূলশক্তি। স্মার্ট প্রচারণা কৌশল প্রয়োগ করতে পারলে তিন-চার মাসেই যেকোনো আসনের সমীকরণ পাল্টে দেওয়া সম্ভব।”
রাজনৈতিক কাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তিনি বলেন- “এখন এটি শুধু তাত্ত্বিক কথা নয়—জনগণের হাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা পৌঁছে দিতে নতুন বন্দোবস্ত সময়ের দাবি। সেই লক্ষ্যেই এনসিপি লড়ছে।”

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনটির রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে পীরাচা জানান- “লক্ষ্মীপুর-৪ কোনো দলের একচ্ছত্র ভোটব্যাংক নয়। কখনো জাসদ, কখনো আওয়ামী লীগ বা বিকল্প ধারা, আবার কখনো বিএনপিও ব্যবধানে জিতেছে। এখানে মানুষ দল নয়- যোগ্য নেতৃত্ব দেখে ভোট দেয়।”
এ আসনের প্রায় চার লক্ষাধিক ভোটারের মধ্যে প্রায় ১ লাখের বেশি ভোটার ৩৫ বছরের ঊর্ধ্বে, যারা কখনো ভোট দিতে পারেননি। তিনি বলেন— “এনসিপি ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের রাজনীতি করে। আমি বিশ্বাস করি রামগতি-কমলনগর এবার পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দেবে।” তরুণ ভোটারদের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন- “তরুণেরা নতুন বাংলাদেশ চায়। তাদের বাবা-মায়েরাও পরিবর্তনের পক্ষে। শাপলা কলি প্রতীকের প্রতি মানুষের বিশ্বাস বাড়ছে- বিশেষত প্রবীণ ভোটাররা শাপলা কলি সামনে পেলে অন্য মার্কায় হাত দেবেন না।”

এলাকার সমস্যা সমাধানে পরিকল্পনা তুলে পীরাচা জানান, নির্বাচিত হলে তাঁর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে মেঘনা নদীভাঙনের স্থায়ী প্রতিরোধ। ইতিমধ্যে তিনি গ্রহন করেছেন ১৭ দফা উন্নয়ন পরিকল্পনা-
১. মেঘনা নদীভাঙন রোধে সেনাবাহিনী দিয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণ।
২. ভুলুয়া নদী পুনঃখনন ও জলাবদ্ধতা নিরসন।
৩. নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন।
৪. কৃষকদের নায্যমূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক প্রদান।
৫. প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
৬. কৃষক ও শ্রমিকদের রেশনিং ব্যবস্থার আওতায় আনা।
৭. ইউনিয়নভিত্তিক সমবায় কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
৮. রাস্তা-ঘাট, পোল কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কার।
৯. উপজেলা হাসপাতাল আধুনিকায়ন ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র সচল করা।
১০. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন।
১১. অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা।
১২. উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সহায়তা কেন্দ্র ও আর্থিক সহায়তা।
১৩. বেকারত্ব দূরীকরণে বিশেষ সেল- যোগ্য যুবকদের প্রশিক্ষণ ও চাকরি।
১৪. ইউনিয়নভিত্তিক নাগরিক কমিটি গঠন ও জলদস্যু দমন।
১৫. মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি।
১৬. বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা।
১৭. ইউনিয়নভিত্তিক নিবন্ধিত লাইব্রেরি ও ক্লাব স্থাপন।

‎জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির সংগঠক তৌফিক উজ জামান পীরাচা তার নিরলস নেতৃত্ব, সংগ্রামী চেতনা ও আদর্শিক অবস্থানের মাধ্যমে রাজনীতিতে গড়ে তুলেছেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ‎পীরাচা স্কুল জীবন থেকে জেএসডি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। প্রথমে ছিলেন স্কুল শাখা কমিটির সদস্য। পরবর্তীতে উপজেলা কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক। ওই সময় আ স ম আবদুর রব সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক, জেলা কমিটির সদস্য এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ধারাবাহিক এই নেতৃত্বযাত্রায় তিনি পরবর্তীতে জেএসডি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় আহবায়ক ও নির্বাচিত সভাপতির দায়িত্বও সুচারুভাবে পালন করেছেন। ‎তিনি দায়িত্ব পালনকালে ভ্যাট বিরোধী আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য গঠন এবং সর্বশেষ বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার সাহসী ও দূরদর্শী ভূমিকা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ‎পীরাচা ছাত্র রাজনীতির পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার নিয়েও কাজ করেছেন । শ্রমজীবী মানুষের দুঃখ-দুর্দশা প্রত্যক্ষ করে ছাত্র রাজনীতি শেষে শ্রমিক রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন দৃঢ় প্রত্যয়ে। তার কর্মদক্ষতায় এনসিপির সহযোগী সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব নির্বাচিত হয়েছেন। । ‎তিনি শ্রমজীবী মানুষের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, উৎপাদন-বণ্টন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় শ্রমিক শ্রেণির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ‎রাজনীতির প্রতিটি ধাপে দায়িত্বশীলতা, সাহস ও আদর্শিক অবস্থানের কারণে তৌফিক উজ জামান পীরাচা আজ জাতীয় পর্যায়ে ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখ এবং সংগ্রামী নেতৃত্বের উজ্জ্বল প্রতীক।

সচেতন মহলের দাবি, পীরাচা চূড়ান্তভাবে এনসিপি থেকে মনোনয়ন পেলে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হবে। তরুণ, সৃজনশীল এবং আন্দোলনভিত্তিক নেতৃত্বের আগমন আসনের প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করবে বলেও তাঁরা মনে করছেন।