পুরুষদের হরমোন নিঃসরণ নারী, শিশুর সুরক্ষা

S S

M

প্রকাশিত: ৬:১২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০২০

মারজাহান আক্তার: একটা সময় যখন বাংলাদেশে শতভাগ পুরুষ শাসিত সমাজ ব্যবস্থা চালু ছিল। সর্বশেষ ২০১৮ সাল নাগাদ তা নেমে এসে ৮৫ শতাংশে (৩০/৬/২০, বিডিনিউজ)।

পুরুষ শাসিত সমাজে পরিবার প্রধান হয় পুরুষ। বাংলাদেশ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হিসাবে এখানে এখনও পুরুষ শাসিত সমাজ ব্যবস্থা বিরাজমান। পুরুষ যিনি পরিবারের অর্থনৈতিক যোগান দাতা, পরিবারের সকল বিষয়ে তার মতামত অগ্রাধিকার পায় অর্থ্যাৎ তিনি যা বলেন পরিবারের সবাইকে তা মানতে হয়। এতে আমি দোষের কিছু দেখিনা যদি সেই কর্তা ব্যক্তি ভালো মানুষ হন এবং ওনার প্রভাব খাটানো টা মাত্রাতিরিক্ত না হয়। এতে সুবিধা হল সেই পরিবার বিশৃঙ্খল হওয়া হতে রক্ষা পায় তাতে সমাজে শান্তি থাকে যা এক সময় ছিল এখন আর নাই বললে চলে কেননা এখন চলছে প্রযুক্তির নেতিবাচক কল্যাণে খারাপ হওয়ার যুগ কথাগুলো সমসাময়িক পর্যবেক্ষণের ফল।

সমস্যা হল এখানেই যে এই পুরুষ পরিবারের প্রধান হওয়ার সুযোগটাকে অধিকাংশ পুরুষ নেতিবাচক ভাবে ব্যবহার করছে বিধায় পুরুষ শাসিত সমাজে নারী নির্যাতন সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। যা সমাজের সুন্দর শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে পরিবার সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে চলছে। যার ফলে দেখা যাচ্ছে নারী ঘরে বাহিরে কোথাও কারোর কাছেই থেকে নিরাপদ নিরাপত্তাটা পাচ্ছে না।২০২০ সালের শুধু এপ্রিল মাসে নারী নির্যাতন হয় ৪২২৯ জন স্বামী দ্বারা ৮৪৮ জন। বিবিসি বাংলা ঢাকা ২০১৭ জুলাই মাসে এক প্রতিবেদনে দেখান ৭০% নারী স্বামী দ্বারা নির্যাতন হয়।

আপনারা কি মনে করেন নারী নির্যাতিত হলেই আইনের আশ্রয় নিয়ে থাকে? না, আপনারা ভুলে গেলে চলবে না মধ্যবিত্ত বলে একটা শ্রেণী আছে যারা মরে গেলেও লজ্জা ও অত্নসম্মান বোধ ক্ষুন্ন হবার ভয়ে কারো ধারস্থ হয় না এছাড়া আমি নিশ্চিত অনেক নির্যাতিতা আছে যারা ন্যয় বিচার পাবে না বলেও আইনের ধারস্থ হয় না। যারা যায় তারাই এত? না যাওয়াগুলো সহ কত? নারী-পুরুষ একে অপরের পরিপূরক এতে কোন সন্দেহ নেই তাহলে এত নির্যাতন কেন?

বলছিলাম বর্তমান সময়ে নারী বাবা, ভাই, স্বামী, সন্তান ও নারী দ্বারাই নির্যাতিত হচ্ছে। আপনারা কি মনে করেন নারী নির্যাতন আগে ছিল না? নারী নির্যাতন আগে ছিল এখনও হচ্ছে আর তা বংশ পরম্পরায় হয়ে আসছে। তবে ইদানিং নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি, নারী সুরক্ষায় আইন তৈরি হওয়া, তথ্যের আবাদ প্রবাহ ইত্যাদি কারনে নির্যাতনটা খুব বেশি প্রকাশ পাচ্ছে কিন্তু সবারটা না। বলছি সব নির্যাতন সহ্য করা গেলেও যেনা, ধর্ষণ সহ্য করার পক্ষে কেউ নেই কারণ এটা সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী একটা কাজ। যার জন্য ইসলামে যেনা, ধর্ষণ কারীর বিরুদ্ধে মায়া না দেখিয়ে গর্ত করে পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যু দন্ড দেয়ার আদেশ রয়েছে। দেশে চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নারী ও শিশু ধর্ষণ হয়েছে ৯৭৫ জন (বাংলা ট্রিবিউন, ১৩ই অক্টোবর) যারা আইনের আশ্রয় চেয়েছে। যারা চাইনি তারা সহ কতজন হবে বলতে পারেন?

সম্প্রতি বাংলাদেশে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের জড় উঠে তারই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সাজা মৃত্যু দন্ড করেন (১০ই অক্টোবর ২০২০) তারিখে। এছাড়া আছে বাল্যবিবাহ রোধক আইন, ইভটিজিং আইন, যৌতুক নিরোধ আইন ইত্যাদি। সব নারীর সুরক্ষার জন্য তাই না? বলছিলাম নির্যাতনের মাত্রা এত বেশি যে তার জন্য একাধিক আইনও রয়েছে এরপরও কি নারী নির্যাতন থেমে আছে ? আপনারাই বলেন।

নারী সুরক্ষায় এত আইন দেখে ভাবছেন নারী আহলাদে উৎফুল্ল হয়ে উঠছে? না, কারন এই আইনগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন আমাদের দেশে হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম। কেন কম তা নিশ্চই আপনাদের অজানা নয়?

শিক্ষিত অশিক্ষিত উভয় ধরনের বেশির ভাগ পুরুষরা কেন সর্বদাই নোংরা চিন্তা করে, যে তাদের নোংরা চিন্তা ঠেকাতে একটা রাষ্ট্রকে মৃত্যু দন্ড দেয়ার মত বিধানও করতে হয়। বাংলাদেশে পুরুষ তুলনায় নারীর হায়াত বেশি আবার তার আচরণের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যু দন্ড যদি হতে থাকে তাহলে সমাজে আরেক ধরনের সমস্যা তৈরি হওয়ার আশংকা থাকে । ভবিষ্যৎ আশংকা হতে মুক্ত থাকতে আমার মনে হয় যেসব পুরুষ দ্বারা নারী নির্যাতন হয় বা হচ্ছে কি কারনে হচ্ছে অর্থ্যাৎ সেটা যদি ‘হরমোন জনিত কারনে'(যে হরমোনের কারণে পুরুষ খারাপ মেজাজের হয় ও যে হরমোনের কারনে নারীকে নোংরা দৃষ্টিতে দেখে) হয়ে থাকে তাহলে প্রাথমিক ভাবে সেই ‘হরমোন টা নিঃসরণ করে দেখা’ এতে যদি কাজ হয় এবং এরা যদি প্রাথমিক অবস্থায় তা কমিয়ে ফেলা যায় তাহলে মৃত্যু দন্ড দিতে হবে না, নারী নির্যাতন কম হবে, অন্য দিকেরও ক্ষতি হবে না অর্থ্যাৎ নারী সুরক্ষিত থাকবে। হ্যাঁ বুঝতে পারছেন ‘সাপ মরবে লাঠিও ভাঙ্গবে না’। পুুুরুষ কর্তৃক নারী নিয্যাতনের অন্য কারন থাকলেও এই দুুই কারনে পুুুরুষ কর্তৃক নারী ও শিশু বেশি নির্যাতন হয় বলে আমি মনে করি।

-লেখক:

ক্ষুদে সমাজবিজ্ঞানী এবং এমফিল গবেষক