রামগতিতে দু’বোনকে উত্যক্তের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

S S

M

প্রকাশিত: ৭:১৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০২৫

দেশালোক:

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে দুই বোনকে উত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়  প্রভাবশালী নুরুল আমিন নোমান (৪০) এর বিরুদ্ধে।

জানা যায়, উপজেলার চরগাজী ইউনিয়ের ৮নং ওয়ার্ডের তেলি বাড়ি এলাকায় স্বামী-স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে বসবাস করছেন আশরাফ উদ্দিন। বড় মেয়ে (২০) নোয়াখালী মহিলা কলেজে সম্মান প্রথম বর্ষে এবং ছোট মেয়ে (১৪) স্থানীয় এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার মহি উদ্দিনের ছেলে নুরুল আমিন নোমান দুই মেয়েকে বিভিন্ন ভাবে উত্যক্ত করছেন বলে অভিযোগ করেছেন মা মিরা বেগম। ভুক্তভোগি দুই বোন জানান, নোমান ভাই বয়সে আমাদের থেকে অনেক বড়। তিনি আসা- যাওয়ার পথে আমাদেরকে নানান ধরনের খারাপ কথাবার্তা বলেন। লোকজনের সামনেই উত্যক্ত করেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার তার দুপুরে অসংলগ্ন কথাবার্তার প্রতিবাদ করলে আমাদের দিকে তেড়ে আসেন। পায়ের থেকে জুতা খুলে মারতে আসেন। ভয়ে আমরা ঘরের ভেরত থেকে দরজা বন্ধ করে দেই।

বড় বোন জানান, সব সময়ই নোমান আমাদের দু বোনকে নিয়ে বাজে বাজে মন্তব্য করেন। অসহায় হওয়ায় আমরা প্রতিবাদ করতে পারছি না। আমি বাড়িতে না থাকলে ছোট বোনকেও উত্যক্ত করে। ভয়ে আমরা ঘর থেকে বের হতে পারছি না। সে স্কুলে যেতেও ভয় পাচ্ছে।

মা মিরা বেগম বুধবার দুপুরে কান্নাজড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, মেয়েরা বড় হয়েছে। তাদের নিয়ে আজে বাজে কথা বললে তাদের বিয়ে শাদি নিয়ে সমস্যায় পড়ে যাব। নোমানকে এসব বাজে আচরন ও কথা বার্তা বলতে নিষেধ করার পরেও তিনি এসব করে যাচ্ছেন। সর্বশেষ মারতে আসছেন। কারো কাছে বললে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি করবে বলে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। মেয়েদের নিয়ে সারাক্ষণ আতংকের মধ্যে রয়েছি। একজন অসহায় মা হিসেবে মেয়েদের সম্মান রক্ষায় প্রশাসনের কাছে সহায়তা চাই।

স্থানীয়রা জানান, ৫আগস্ট পট পরিবর্তনের পর নিজেকে চরগাজী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন নোমান।  প্রায় মাদকাসক্ত থাকেন তিনি। রাজনৈতিক পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে নানান অপকর্মে জড়িত হন। ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে চান না। তারা জানান নোমান বিবাহিত, তার সন্তানও আছে।

এ বিষয়ে  নুরুল আমিন নোমান জানান, পবিরবারটি অসহায় হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আমরা তাদের দেখভাল করে আসছি। ঐদিন সকালে বড় মেয়েটির একটি ভুল কাজ চোখে পড়লে তা থেকে বিরত থাকতে নিষেধ করি। এতে ক্ষ্রিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করছে।

রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।