নিওনেল মেসি’র বার্সেলোনা ছেড়ে যাওয়া

না চাওয়া যে বিদায় কেবল অশ্রু ঝরায়

S S

M

প্রকাশিত: ৭:১২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০২১

 

অনলাইন ডেস্ক:

১৩ বছর বয়সে ক্লাব বার্সেলোনায় আসেন লিওনেল মেসি। এরপর থেকে ন্যু ক্যাম্পে ক্যারিয়ারের বিশ বছর কাটানোর পর অবশেষে বিদায় নিলেন লিওনেল মেসি। প্রিয় ক্লাবে থাকতে চেয়েও নানা জটিলতায় আর থাকা হচ্ছে না তার। তাই তো অস্রুভেজা চোখের জলে বার্সেলোনাকে বিদায় জানালেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।

আজ রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় ন্যু ক্যাম্পে আসেন মেসি। এ সময় উপস্থিতি ক্লাব সতীর্থ, ক্লাব কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সামনে বার্সেলোনার ক্যারিয়ারকে বিদায় জানান তিনি।

বিদায় বেলায় মেসি বলেন, ‘আমি এই ক্লাবটিকে ভালোবাসি। এমন মুহূর্ত কখনো আসবে আমি চিন্তাও করিনি। মিথ্যা বলছি না, গত বছর আমি ক্লাব ছাড়তে চেয়েছিলাম। কিন্তু এ বছর এটা চাইনি। এটা ভেবেই আরও বেশি কষ্ট হচ্ছে। এ বছর আমি থাকতে চেয়েছি, কিন্তু পারিনি।’

‘আমাকে নিয়ে অনেক কথাই রটানো হয়েছে। কিন্তু সত্যিটা হলো এখানে (বার্সেলোনায়) থাকার জন্য আমি সব ধরনের চেষ্টা করেছি। গত বছর আমি নিজেই চলে যেতে চেয়েছিলাম। সেটা সবাইকে জানিয়েছিলাম। (সিদ্ধান্ত পাল্টে) এ বছর আমি থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পারলাম না’, যোগ করেন তিনি।

২০০০ সালে বার্সেলোনায় যোগদানের পর ২০০২ বার্সা যুবদলের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন মেসি। পরের বছরই যোগ দেন বার্সেলোনার অনূর্ধ্ব-১৬ দলে। বার্সার সি, বি, এ দল শেষ করে ২০০৫ সালে মূল দলে ঠাঁই মিলে আর্জেন্টাইন এই তারকা ফরোয়ার্ডের। এরপর সময়ের পালা বদলে মেসি হয়ে ওঠেন ক্লাব বার্সেলোনার প্রাণ ভোমরা। একই সঙ্গে বিশ্ব সেরা ফুটবলারদের একজন।

ক্লাব ক্যারিয়ারে কাতালনদের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭৭৮ ম্যাচ খেলেন তিনি। গোল করেন ৬৭২। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও গোল করার রেকর্ড লা লিগায়। মেসি বার্সার জার্সি গায়ে লা লিগায় ৫২০ ম্যাচে অংশ নিয়ে গোল করেছেন ৪৭৪টি, যা লিগের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা। এই সময়ে তিনি ১০ মৌসুমে লিগ শিরোপা জেতেন। মেসি বার্সার হয়ে ৬৩ হাজার ৫০৬ মিনিট মাঠে রাজত্ব করেন। তার মধ্যে ৪২ হাজার ১৪২ মিনিট সময় তিনি লা লিগায় খেলেন।

এ ছাড়া স্পেনের বিভিন্ন ঘরোয়া আসরে আরও ১৪টি শিরোপা জেতেন তিনি। তার মধ্যে স্প্যানিশ সুপারকাপে ৮টি এবং কোপা দেল রে’তে ৬টি শিরোপা জেতেন। ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে চারবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেন তিনি। একই সঙ্গে ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ডকাপে তিনবার ও উয়েফা সুপারকাপে তিনবার শিরোপা জেতেন ছয়বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলার।